এঙ্গেল অ্যান্ড ভলকার্সের পূর্বাভাস

নতুন রেকর্ড গড়তে পারে দুবাইয়ের প্রপার্টি বাজার

দুবাইয়ের প্রপার্টি বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পেছনে রয়েছে টেকসই বিনিয়োগ আস্থা, বিস্তৃত বিলাসবহুল খাত ও বাণিজ্যিক চাহিদার সম্প্রসারণ।

দুবাইয়ের প্রপার্টি বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পেছনে রয়েছে টেকসই বিনিয়োগ আস্থা, বিস্তৃত বিলাসবহুল খাত ও বাণিজ্যিক চাহিদার সম্প্রসারণ। এসব প্রবণতা অব্যাহত থাকার নিরিখে চলতি বছর সম্পত্তি বাজারে রেকর্ড লেনদেনের পূর্বাভাস দিয়েছে আবাসন সংস্থা এঙ্গেল অ্যান্ড ভলকার্স মিডল ইস্ট। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) জ্বালানি তেলবহির্ভূত অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের সুবিধা নিচ্ছে দুবাইয়ের মতো প্রধান শহরগুলো। কর, ভিসা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত নীতি শিথিলের কারণে অঞ্চলটি এখন অর্থ পাচারের বড় গন্তব্য হয়ে উঠেছে, যার বড় অংশ বিনিয়োগ হয় রিয়েল এস্টেটে।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও কৌশলগত সরকারি উদ্যোগ দুবাইকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করেছে।

দুবাইয়ে বিলাসবহুল খাতে সম্পত্তি বিক্রি স্থিতিশীল রয়েছে। শহরটিতে ১ কোটি দিরহামের বেশি মূল্যের সম্পত্তির বিক্রয় বার্ষিক ২০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিক (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ২০২৩ সালের একই প্রান্তিকের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

এছাড়া বাণিজ্যিক সম্পত্তির চাহিদা সরবরাহকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় ভাড়া ডাবল ডিজিটে বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অফিস ভাড়া ১১ শতাংশ, খুচরা বিক্রয় স্থান ৯ দশমিক ৭ ও গুদামের ভাড়া ২১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে।

গত বছর দুবাইয়ে আবাসিক সম্পত্তির লেনদেন ৪০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৯২ ইউনিটে পৌঁছায়, যা ২০২০ সালের তুলনায় পাঁচ গুণ। সেকেন্ডারি মার্কেট সংকুচিত হওয়ায় এখন বিনিয়োগকারীরা অফ-প্ল্যান লেনদেনকে প্রধান গন্তব্য করে তুলেছেন, যা ছিল মোট বিক্রির ৬৩ শতাংশ। ২০২৩ সালে অফ-প্ল্যান লেনদেনের হিস্যা ছিল ৫৪ শতাংশ।

দুবাইয়ের আবাসন খাতের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি, এক্ষেত্রে লেনদেন বেড়েছে ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ। এটি সামগ্রিক রিয়েল এস্টেট বাজারের প্রবৃদ্ধিতে ৮৯ দশমিক ৬ শতাংশ অবদান রেখেছে। জনপ্রিয় বিনিয়োগ এলাকার মধ্যে ছিল জুমেইরাহ ভিলেজ সার্কেল, বিজনেস বে ও দুবাই হিলস এস্টেট। এসব এলাকা অফ-প্ল্যান বিক্রিতেও শীর্ষে ছিল। অন্যদিকে দুবাই মেরিনা, ডাউনটাউন দুবাই ও জুমেইরাহ লেকস টাওয়ার্সের মতো প্রধান লোকেশনে হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত সম্পত্তি আধিপত্য বিস্তার করেছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, বাণিজ্যিক রিয়েল এস্টেট খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স দুবাইয়ের বৈশ্বিক ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে ক্রমবর্ধমান অবস্থানকে প্রতিফলিত করে। ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ২৪ হাজারের বেশি নতুন ব্যবসা নিবন্ধিত হওয়ায় শহরটিতে প্রিমিয়াম অফিস স্পেসের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ফলে ডিআইএফসি, ডাউনটাউন দুবাই ও বিজনেস বে এলাকায় মালিকানার হার ৯৫-৯৭ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। আলদার প্রপার্টিজের মতো ডেভেলপাররা এ পরিস্থিতিতে নতুন নতুন প্রকল্পের ঘোষণা দিয়ে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে।

অঞ্চলটির সামগ্রিক রিয়েল এস্টেট বাজার সম্পর্কে নিয়ে এঙ্গেল অ্যান্ড ভলকার্স মিডল ইস্টের সিইও ড্যানিয়েল হাদি বলেন, ‘মূলধন বৃদ্ধি, ভাড়া থেকে উচ্চ আয় ও ক্রমবর্ধমান বিদেশী বিনিয়োগের সংমিশ্রণ দুবাইকে শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক সম্পত্তির বাজার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। বিশ্বের দ্রুততম বেড়ে চলা রিয়েল এস্টেট বাজারের একটি হিসেবে আমরা সামনেও দুবাইয়ের বৈশ্বিক মূলধন, উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি ও বহুজাতিক করপোরেশন আকর্ষণ করার ক্ষমতা অব্যাহতভাবে দেখব। ২০২৪ সালে যে প্রবৃদ্ধি প্রত্যক্ষ করেছি, তা ২০২৫ সালের আরেকটি রেকর্ড-ব্রেকিং বছরের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করেছে।’

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, অবকাঠামোয় ধারাবাহিক বিনিয়োগ, মেগা-প্রকল্প চালু ও বিদেশী আগ্রহ বজায় থাকায় আমিরাতের রিয়েল এস্টেট খাত প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে যেতে প্রস্তুত। এটি অঞ্চলটিকে বিশ্বের অন্যতম মুনাফাদায়ী ও স্থিতিশীল সম্পত্তি বাজার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

আরও